Showing posts with label ইমিউনোলজি. Show all posts
Showing posts with label ইমিউনোলজি. Show all posts

মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার একটা অংশ টি-সেল যা ক্যান্সার নিরাময়ে সক্ষম

টি-সেল

বিজ্ঞানীরা বলছেন,মানুষের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থার নতুন আবিষ্কৃত একটা অংশ সব ক্যান্সারের চিকিৎসা করতে পারে।

কার্ডিফ ইউনিভার্সিটির একটি গবেষক দল একটি পদ্ধতি আবিষ্কার করেছে যার ফলে প্রোস্টেট, স্তন,ফুসফুস এবং অন্যান্য ক্যান্সার সারিয়ে তুলতে পারে।

তাদের এই গবেষণা নেচার ইমিউনোলজি ম্যাগাজিনে প্রকাশ করা হয়েছে।

গবেষকরা বলছেন যদিও এটা এখনো কোন রোগির শরীরে পরীক্ষা করা হয় নি কিন্তু সফল হওয়ার বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন এই কাজ এখনো প্রাথমিক ধাপে রয়েছে কিন্তু এটা খুব উত্তেজনাকর।

গবেষকরা কী খুঁজে পেয়েছেন?

আমাদের শরীরের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা আমাদের শরীরের সংক্রমণের বিরুদ্ধে স্বাভাবিকভাবে কাজ করে।

কিন্তু এটা ক্যান্সারের কোষ বা সেল কেও আক্রমণ করে।

বিজ্ঞানীরা খুঁজেছে 'অস্বাভাবিক' এবং পূর্বে অনাবিষ্কৃত পন্থা যেটা দিয়ে রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা স্বাভাবিকভাবে টিউমারের উপর আক্রমণ করে।

 

তারা বলছে, মানুষের রক্তে আছে একটি টি-সেল। এটা একটা রোগ প্রতিরোধক সেল বা কোষ যা দিয়ে শরীর পরীক্ষা করে পরিমাপ করতে পারে যে কোন ঝুঁকি আছে কিনা যেটা দুর করা দরকার।

পার্থক্য হল এই কোষ টি বৃহৎ আকারে ক্যান্সারের বিরুদ্ধে কাজ করতে পারে ।

গবেষক অধ্যাপক অ্যানড্রু সিওয়েল বিবিসিকে বলেছেন "এটাতে সব রোগিকে চিকিৎসা করার একটা সুযোগ রয়েছে"। তিনি আরো বলেন "আগে কেউ বিশ্বাস করেনি এটা সম্ভব হতে পারে। একটা কোষ দিয়ে সব ক্যান্সারের চিকিৎসার সম্ভাবনা বাড়িয়ে দিয়েছে। যেটাকে ইংরেজিতে বলে 'ওয়ান ইজ ফিটস্‌ অল' (one-size-fits-all)

কীভাবে এটা কাজ করে?

টি-সেলের 'রিসেপ্টর' আছে। রিসেপ্টর হল একটা সেল বা কোষ যেটা আলো, তাপ বা অন্যান্য উদ্দীপক বস্তুর প্রতিক্রিয়া পাঠাতে পারে।

এর ফলে তারা রাসায়নিকের মাত্রাটা দেখতে পারে।

কার্ডিফের এই গবেষক দলটি রক্তের এই টি-সেল এবং তার রিসেপ্টর আবিষ্কার করেছে যেটা দিয়ে পরীক্ষাগারে বৃহৎ পরিসরে ক্যান্সারের সেল আবিষ্কার করা এবং ধ্বংস করতে পারে।

এসব ক্যান্সারের মধ্যে রয়েছে ফুসফুস,ত্বক,রক্ত,কোলন,স্তন,হাড়,প্রোস্টেট, ওভারি, কিডনি এবং জরায়ুর ক্যান্সার।

রোগীকে তার ক্যান্সারের টিউমার দেখাচ্ছেন একজন মার্কিন ডাক্তার।

জটিল হলেও এটা স্বাভাবিক টিস্যুকে প্রভাবিত করবেনা।

তবে আসলেই এটা ঠিক কীভাবে কাজ করবে সেটা এখনো পরীক্ষা-নিরীক্ষার বিষয়।

এই নির্দিষ্ট টি-সেলের রেসেপ্টর এমআরওয়ান নামে একটা অণুর সাথে মিথস্ক্রিয়া করানো হয়েছে যেটা মানুষের শরীরের প্রত্যেক সেলের উপরিভাগে থাকে।

রিসার্চ ফেলো গ্যারি ডলটন বিবিসিকে বলেছেন "আমরাই প্রথম যারা বর্ণনা করছি একটি টি-সেল যেটা ক্যান্সার সেলের মধ্যে এমআরওয়ান খুঁজে পায়। এটা এর আগে করা হয়নি। এটা এবারই প্রথম"।

এটা কেন তাৎপর্যপূর্ণ?

টি-সেল থেরাপি আগে থেকেই রয়েছে। তবে ক্যান্সার প্রতিরোধক থেরাপির উন্নয়ন এই ক্ষেত্রে অন্যতম উত্তেজনাকর অগ্রগতি।

অতি বিখ্যাত উদাহরণ হল সিএআর-টি। এটা হল একটা জীবিত ওষুধ যেটা রোগির টি-সেল খুঁজে বের করবে এবং ধ্বংস করবে।

সিএআর-টি'র একটা নাটকীয় ফলাফল হতে পারে, যার ফলে যে রোগি মৃত্যুর দিকে ধাবিত হতে পারতো তাকে আগেই পুরোপুরি সারিয়ে তুলবে।

যাইহোক, এর লক্ষ্য ছিল খুবই নির্দিষ্ট এবং যেটা সীমিত সংখ্যার ক্যান্সারের ক্ষেত্রে কাজে লাগে।

অন্যদিকে টি-সেলকে প্রশিক্ষণ দেয়ার একটা পরিষ্কার লক্ষ্য আছে যাতে ক্যান্সার ধরতে পারে। এবং এটা ব্লাড ক্যান্সার বা লিউকেমিয়াতে যতটা সফলতা পেয়েছে টিউমার থেকে যে ক্যান্সার হয় সেটাতে সফলতা আনতে ততটাই হিমশিম খাচ্ছে।

গবেষকরা বলছেন তাদের টি-সেল রিসেপ্টর সার্বজনীন ক্যান্সারের চিকিৎসার প্রতিনিধিত্ব করতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা কী বলছেন?

সুইজারল্যান্ডের ইউনিভার্সিটি অব বাসিলের দুইজন গবেষক লুসিয়া মোরি এবং জিনারো ডি লিভেরো বলছেন এই গবেষণার "বড় সম্ভাবনা' আছে। কিন্তু এটা এতটাই প্রাথমিক অবস্থায় রয়েছে যে এটা সব ক্যান্সারে কাজ করবে সেটা এখনি বলা যাচ্ছে না।

দ্যা ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টার এর অধ্যাপক ড্যানিয়েল ডেভিস বলছেন "এই মুহূর্তে এটা খুব প্রাথমিক গবেষণা। এবং রোগিদের জন্য সঠিক ওষুধ তৈরির কাছাকাছি পর্যায়ে নেই।

Source : BBC.Com

জ্বর কি কোনো রোগ নাকি অন্যকিছু?

 

Free photo Thermometer Measure Temperature Tool Fever - Max Pixel

জ্বর সম্পর্কে জানার আগে জেনে নিই হাইপোথ্যালামাস সম্পর্কে। হাইপোথ্যালামাস মানুষের অগ্রমস্তিষ্কের একটা অংশ। এর অপর নাম হল বডি’স থার্মোস্ট্যাট বা দেহের তাপ নিয়ন্ত্রক যন্ত্র। এটা শরীরের তাপমাত্রাকে ৩৭’সে(৯৮.৬) এ স্থির রাখে। কোন কারনে এই তাপমাত্রা বেশি হলে তাকে আমরা জ্বর বলি।
এখন প্রশ্ন হচ্ছে -জ্বর কি কোন রোগ নাকি অন্য কিছু? জ্বর অনেক ধরনের আছে, তবে আমি এখানে
সাধারন জ্বরের কথাটাই আলোচনা করব।
ছিনতাইকারী ও ডাকাত দলের গ্রাম নেগেটিভ ব্যাকটেরিয়াগুলো ( এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া, যাদের কোষপ্রাচীর লিপোপলিস্যাকারাইড দিয়ে গঠিত) যখন আমাদের শরীরের ভিতর কোন ক্ষতিসাধন করতে চায়, তখন আমাদের শরীরের দেহরক্ষী পাহারাদার ফ্যাগোসাইটগুলো (এক ধরনের শ্বেত রক্তকনিকা, যারা জীবাণুগুলোকে ভক্ষন করে মেরে ফেলে) তাদেরকে ভক্ষন করে ফেলে। এখন ডাকাত ব্যাকটেরিয়াতো নিরুপায়। পৃথিবীর সব প্রানীই বাচতে চায়। তাই সে সাথে সাথে এন্ডোটক্সিন নামক একধরনের বিষাক্ত পদার্থ শরীর থেকে বের করে দেয় যাতে ফ্যাগোসাইটককে সে কাবু করতে পারে। দেহরক্ষী ফ্যাগোসাইটও কম যায়না। সাথে সাথে ফ্যাগোসাইট ওই ডাকাতকে মেরে ফেলার জন্য নিজের শরীর থেকে সাইটোকাইন নামক পদার্থ বের করে দেয়। তখন সাইটোকাইন তাপযন্ত্রের কাছে এই খবরটি পৌছে দেয়। তাপযন্ত্র তো রেগেমেগে খুব গরম হয়ে যায় আর প্রোস্টাগ্লান্ডিন নামক একধরনের পদার্থ বের করে সারা শরীরকে উত্তপ্ত করে ফেলে। শরীরের তাপমাত্রা তখন ৩৭ থেকে বেড়ে ৩৯’সে এ পৌছায়।আর এই অবস্থাটাকে আমরা বলছি “জ্বর”।
যতক্ষণ ব্যাকটেরিয়া না মারা যায়, ততক্ষণ ফ্যাগোসাইটগুলো সাইটোকাইন বের করতে থাকে। একসময় সাইটোকাইন বের হওয়া বন্ধ হয়ে যায়। আর তখন তাপমাত্রা আবার ৩৭’সে এ নেমে আসে।
তাহলে উপরের আলোচনা থেকে বোঝা গেল যে, জ্বর কোন রোগ নয় বরং এক ধরনের রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা।
রোগপ্রতিরোধ করে কিভাবে?
এই ডাকাত দলের ব্যাকটেরিয়াগুলোর শরীর থেকে নিঃসৃত এন্ডোটক্সিনগুলো শরীরে ডায়রিয়া ঘটাতে পারে, শরীরের রোগপ্রতিরোধী কোষ বা ইমিইনি কনাগুলোকে (লিউকোসাইট, লিম্ফোসাইট, অনুচক্রিকা) ধ্বংস করে ফেলতে পারে। এমনকি এন্ডোটক্সিনের পরিমাণ বেশি হলে হিমোরেজিক শকের মাধ্যমে মৃত্যুও ঘটতে পারে। তাই দেহরক্ষী পাহারাদার ফ্যাগোসাইটগুলো এই কাজটা করে থাকে।
তবে যদি জ্বরের তাপমাত্রা অসহনীয় হয়ে যায়, তাহলে অবশ্যই ফিজিসিয়ানের দারে যেতে হবে। আর তাপমাত্রা ৪৩-৪৪’সে এ উন্নীত হলে মৃত্যু এসে দুয়ারে কড়া নাড়বে।
আশা করছি, বুঝাতে পেরেছি। ভালা থাকবেন।
[full_width]